মর্যাদার লড়াইয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে দুই প্রার্থী_khulnatv

মর্যাদার লড়াইয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে দুই প্রার্থী

বাংলাদেশ

মর্যাদার লড়াইয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে দুই প্রার্থী

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য মর্যাদার লড়াই। নগরপিতার পদটি পুনরুদ্ধার করতে চায় ক্ষমতাসীন দল। আর বিএনপি মেয়রের চেয়ারটি ধরে রাখার পাশাপাশি এ নির্বাচনকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখছে।

দুই দলই নিজ নিজ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে ফেলেছে। সাবেক মেয়র ও বাগেরহাট-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে দুই দলই মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ সব ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছে। বিএনপি আজ কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। দুই দলই নিজেদের কোন্দল মিটিয়ে একসঙ্গে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করার কথা বলছে।
তবে গতকাল মঙ্গলবার লোয়ার যশোর রোডের আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা ছিল না বললেই চলে। তালুকদার খালেকসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আজ বুধবার তিনি খুলনায় ফিরবেন। সংসদ সদস্য পদ থেকে গতকাল তিনি পদত্যাগ করেছেন।
নগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় দলের বর্ধিত সভা হবে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য একটা কেন্দ্রীয় কমিটি হবে, নাকি আলাদা কমিটি হবে-সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে এ সভায়। কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনায় আসতে শুরু করবেন আজ-কালের মধ্যে।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সিটি নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে বেশ ঐক্যবদ্ধ। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য মর্যাদার লড়াই।
মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিসুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে জিততেই হবে। এটা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। সবাই এক হয়ে কাজ করে আমরা আমাদের প্রার্থীকে জেতাব।’
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটা এক হয়ে কাজ করতে পারবে, জানতে চাইলে মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘এবার তো কোন্দল থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী খুলনার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে তাঁদের মতামত শুনেছেন। তাঁরা সবাই এক হয়ে আমাকে প্রার্থী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন।’

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

তালুকদার খালেক ও নজরুল ইসলামের পক্ষে দুই দল মাঠে নামছে।

আ.লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত। বিএনপি আজ ঘোষণা করবে।

চার মামলা নিয়ে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী
বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম খুলনায় ফিরেছেন গত সোমবার রাতে। গতকাল তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল পুলিশ। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন তিনি। গতকালও তাঁর সময় কেটেছে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মোট মামলা চারটি। সব কটিই জামিনে আছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, এই শহরের মানুষ বিএনপি-পাগল। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা হলো সরকার ও ইসি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে নেতা-কর্মীরা শঙ্কিত। মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না, কেন্দ্র দখল হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাররা চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমরা সেনা চেয়েছি, ইভিএমে না করেছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) চেয়েছি। নির্বাচন কমিশনকে এগুলো বিবেচনায় আনতে হবে।’

আরো পড়ুন : জানুন রসুনের এত ঔষধি গুন আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত

কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন
গত রোববার কেন্দ্র থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক করেছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি সাধারণ ওয়ার্ডে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষ করেছে। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

বিএনপিতে ঐক্যের সুর
খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা বছর দুয়েক ধরে একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ এনে একে অপরের দিকে তির ছুড়তেন তাঁরা। বিরোধ এতটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছিল যে কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসূচি দুটি পক্ষ আলাদাভাবে পালন করত। সর্বশেষ খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য পালন করা বিভিন্ন কর্মসূচিও আলাদাভাবে হয়েছে।
এক পক্ষে থাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম এবার মেয়র পদপ্রার্থী। অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এস এম আরিফুর রহমান ওরফে মিঠু। তবে নির্বাচন সামনে রেখে এই বিরোধ আর থাকছে না বলে দাবি করলেন দুই পক্ষের নেতারা।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। বড় দলে ছোটখাটো মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে নির্বাচনে সবাই এক হয়ে লড়বে।
আরিফুর রহমান বলেন, ‘এবার আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। দল এখন নানা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে উঠে আসতে হলে নির্বাচনে বিএনপির জয় অবশ্যই দরকার। আর আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকেই তা করব।’

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.