পাঁচদিনে ভর্তি হয়েছে ৮৮ শিশু_khulna tv

চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি

স্বাস্থ ও চিকিৎসা

পাঁচদিনে ভর্তি হয়েছে ৮৮ শিশু, বর্হিবিভাগের চিকিৎসা নিয়েছে ৭ শতাধীক


রুদ্র রাসেল : চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৫দিনে প্রায় প্রতিদিনই ৫০ থেকে ৬০ শিশু ভর্তি ছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। অথচ এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৫টি। অতিরিক্ত ১০ টি শয্যা যোগ করে বর্তমানে শয্যা সংখ্যা ২৫ টি। প্রয়াজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায়, শিড়ির নিকট বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালে শিশুবিশেষজ্ঞ আছেন দুজন। ওয়ার্ডে সর্বক্ষণিক দায়ীত্বে থাকেন একজন করে নার্স। শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।


সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড (শয্যা) রয়েছে ২৫টি এবং একটি কেবিন থাকলেও বিপরীতে রোববার বিকেল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ৬০ জন। এদিকে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২১৮ জন শিশু। একই সময়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২০ জন, এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দশ জন। আগেরদিন শনিবার (৪ সেপ্টম্বর) শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৭ জন এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট জন। গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) শিশু ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হয় ১২ জন এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা পাঁচজন, আগেরদিন বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) ভর্তি হয়েছে ১৮ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৬ জন। গত বুধবার (১ সেপ্টেম্বের) শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৭ জন।


হাসপাতালের কনিষ্ঠ শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। হাসপাতালের বর্হি বিভাগে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ২২০ জন পর্যন্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি। নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগীদের সেরে উঠতেও দেরি হচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৪ দিন লেগে যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকায় রোগীর চিকিৎসা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরেই এ অবস্থা চলছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।


তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ টানা বর্ষণ, হঠাৎ ঠাণ্ডা আবার হঠাৎ করেই অতিরিক্ত গড়মের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সামনে শীত ঋতু আসছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময় শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি থাকে। এ সময় শিশুর অভিভাবকদের অনেক সর্তক্য থাকতে হবে।’
সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুড়ে দেখা যায়, ‘হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে প্রয়াজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় রোগী গাদাগাদি করে ওয়ার্ডের মেঝেতে, বাড়ান্দায় ও শিড়ির নিকট চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে নিউমোনিয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু ওয়াডের্র মেঝে, বারান্দা ও শিড়ির সামনেও রোগী ও স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়।

পাটি ও চাদর বিছিয়ে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বসে আছেন মায়েরা। স্বজনদের ভিড় ও শব্দের কারণে হাসপাতালের কর্মীরা চিকিৎসকের ওয়ার্ডে রাউন্ডে আসার পূর্বে শিশুর সঙ্গে মা ছাড়া অন্যদের বাইরে যাওয়ার জন্য বলছে।


৮ মাস বয়সী শিশু রোগী লাবীবের দাদী রাশিদা বেগম বলেন, ‘গত তিন চারদিন ধরে লাবীবেব ঠাণ্ডা কমছে না। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ালেও ঠাণ্ডা না কমায় আজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী থাকায় শিশু ওয়ার্ডের বারান্দাতেও ঠায় না পেয়ে শিড়িঁর নিকট বিছানা পেতে শিশু লাবীবকে নিয়ে আছি।’
১ দিন বয়সী শিশু রোগীর মা বেলি খাতুন বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই সে ঠাণ্ডা ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত। চিকিৎসক বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছেন। যে কারণে দুপুরেই হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করে এখানেই আছি। ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও টিকিৎসক রিপোর্ট দেখে তার নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।


হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিয়ির স্টাফ নার্স জানান, ‘রোগীদের চাপ অনেক বেশি। এক বেডের বীপরিতে ২-৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এত রোগী একার পক্ষে সামলাতে কষ্ট হলেও আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। রোগীদের স্বজনদের চাপও একটু বেশি। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা বর্ষা ও আবওহাওয়ার হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তণের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডা বা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ডাক্তার ও নার্স রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। বেড কম থাকায় তাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।

KHULNA TV

Tagged

Leave a Reply